, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় বাস্তুহারা দলের উদ্যোগে দোয়া ও মাহফিল অনুষ্ঠিত হিজলায় মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মোনাজাত  মেহেন্দিগঞ্জে খালেদা জিয়ার শোক সভায় রাজিব আহসান নিজে কাঁদলেন এবং সবাইকে কাঁদালেন পুরান ঢাকায় শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরন করেছে ইউরো ফেমাস ক্লাব আনন্দঘন পিকনিকে মুখর বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুরা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার নির্বাচন: নিপুন রায় চৌধুরী গ্যাসের দামে কারসাজি সংবাদ প্রকাশের পর কেরানীগঞ্জে মোবাইল কোর্ট, জরিমানা ৩২ হাজার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে কেন্দ্রীয় যুবদল সভাপতি ও সিনিয়র সহ-সভাপতির সৌজন্য সাক্ষাৎ চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যু তারেক রহমানের আবেগঘন ঘোষণা: ‘আমার মা, গণতন্ত্রের মা আর নেই’

অভিনব কায়দায় টিকিট বিক্রি করে ১৬ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ সায়মন ওভারসীজের বিরুদ্ধে

  • প্রকাশের সময় : ০৯:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৮৭ পড়া হয়েছে

 

 

আসিফ চৌধুরী, বিশেষ সংবাদদাতা ঢাকা :

 

বিমান ভ্রমণে নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও দেশজুড়ে টিকিট কেলেঙ্কারির লাগাম টানতে পারছে না সরকার। সর্বশেষ অভিযোগ উঠেছে সায়মন ওভারসীজ লিমিটেড নামে একটি ট্রাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানটি অভিনব কায়দায় ক্রস বর্ডারে এয়ার টিকিট বিক্রি করে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করেছে—এমন তথ্য পেয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে।

 

মন্ত্রণালয় ও ট্রাভেল এজেন্ট সূত্রে জানা যায়, ঢাকায় নিবন্ধিত সায়মন ওভারসীজ নিজেদের গ্লোবাল ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম (জিডিএস) আইডি ব্যবহার করে বিদেশের বিভিন্ন দেশে এজেন্টের মাধ্যমে টিকিট বিক্রি করে আসছিল। গত বছরের ৪ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ২১ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি আইএটিএ অনুমোদিত একই জিডিএস আইডি দিয়ে মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে মোট ১,৮৯৪টি এয়ার টিকিট বিক্রি করেছে। এসব টিকিটের আনুমানিক মূল্য কমপক্ষে ১৬ কোটি টাকা। অভিযোগ হলো—বিদেশে যাত্রীরা টিকিটের মূল্য পরিশোধ করলেও সেই অর্থ আর বাংলাদেশে ফেরত আসেনি।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ট্রাভেল এজেন্ট জানান, জিডিএস আইডি শুধু বাংলাদেশ থেকেই পরিচালনা করার নিয়ম রয়েছে। ওই আইডির মাধ্যমে টিকিট বিক্রি করলে আইএটিএ’র মাধ্যমে এয়ারলাইন্সগুলো তাদের প্রাপ্য অর্থ পায় এবং সেই রেমিট্যান্স দেশের রিজার্ভে যুক্ত হয়। কিন্তু সায়মন ওভারসীজ তাদের জিডিএস আইডি অবৈধভাবে বিদেশি এজেন্টদের কাছে সরবরাহ করেছে। এভাবে বিদেশে টিকিট বিক্রি হলেও সেই অর্থ আর দেশে আসেনি। এতে রাষ্ট্রীয় রিজার্ভও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, সায়মন ওভারসীজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসফিয়া জান্নাত সালেহ–র কাছে বিষয়টির ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। গত সোমবার পাঠানো চিঠিতে তিন কার্যদিবসের মধ্যে ‘ক্রস বর্ডার টিকিট বিক্রি ও অর্থ পাচার’ সম্পর্কিত ব্যাখ্যা প্রদান করতে বলা হয়েছে।

 

ট্রাভেল খাতের শীর্ষ সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (আটাব) মহাসচিব ছিলেন আসফিয়া জান্নাত সালেহ। চলতি বছরের আগস্টে সংগঠনের সভাপতি ও মহাসচিবের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠার পর মন্ত্রণালয় আটাব কমিটি বাতিল করে দেয়। এরপর থেকেই আসফিয়ার বিরুদ্ধে এয়ার টিকিট ব্যবস্থাপনায় একাধিক অনিয়ম ও অর্থ পাচারের অভিযোগ সামনে আসে।

 

তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স, আর্থিক লেনদেন ও আইএটিএ–সংশ্লিষ্ট নথিও পর্যালোচনা করা হবে।

বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় বাস্তুহারা দলের উদ্যোগে দোয়া ও মাহফিল অনুষ্ঠিত

অভিনব কায়দায় টিকিট বিক্রি করে ১৬ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ সায়মন ওভারসীজের বিরুদ্ধে

প্রকাশের সময় : ০৯:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫

 

 

আসিফ চৌধুরী, বিশেষ সংবাদদাতা ঢাকা :

 

বিমান ভ্রমণে নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও দেশজুড়ে টিকিট কেলেঙ্কারির লাগাম টানতে পারছে না সরকার। সর্বশেষ অভিযোগ উঠেছে সায়মন ওভারসীজ লিমিটেড নামে একটি ট্রাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানটি অভিনব কায়দায় ক্রস বর্ডারে এয়ার টিকিট বিক্রি করে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করেছে—এমন তথ্য পেয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে।

 

মন্ত্রণালয় ও ট্রাভেল এজেন্ট সূত্রে জানা যায়, ঢাকায় নিবন্ধিত সায়মন ওভারসীজ নিজেদের গ্লোবাল ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম (জিডিএস) আইডি ব্যবহার করে বিদেশের বিভিন্ন দেশে এজেন্টের মাধ্যমে টিকিট বিক্রি করে আসছিল। গত বছরের ৪ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ২১ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি আইএটিএ অনুমোদিত একই জিডিএস আইডি দিয়ে মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে মোট ১,৮৯৪টি এয়ার টিকিট বিক্রি করেছে। এসব টিকিটের আনুমানিক মূল্য কমপক্ষে ১৬ কোটি টাকা। অভিযোগ হলো—বিদেশে যাত্রীরা টিকিটের মূল্য পরিশোধ করলেও সেই অর্থ আর বাংলাদেশে ফেরত আসেনি।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ট্রাভেল এজেন্ট জানান, জিডিএস আইডি শুধু বাংলাদেশ থেকেই পরিচালনা করার নিয়ম রয়েছে। ওই আইডির মাধ্যমে টিকিট বিক্রি করলে আইএটিএ’র মাধ্যমে এয়ারলাইন্সগুলো তাদের প্রাপ্য অর্থ পায় এবং সেই রেমিট্যান্স দেশের রিজার্ভে যুক্ত হয়। কিন্তু সায়মন ওভারসীজ তাদের জিডিএস আইডি অবৈধভাবে বিদেশি এজেন্টদের কাছে সরবরাহ করেছে। এভাবে বিদেশে টিকিট বিক্রি হলেও সেই অর্থ আর দেশে আসেনি। এতে রাষ্ট্রীয় রিজার্ভও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, সায়মন ওভারসীজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসফিয়া জান্নাত সালেহ–র কাছে বিষয়টির ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। গত সোমবার পাঠানো চিঠিতে তিন কার্যদিবসের মধ্যে ‘ক্রস বর্ডার টিকিট বিক্রি ও অর্থ পাচার’ সম্পর্কিত ব্যাখ্যা প্রদান করতে বলা হয়েছে।

 

ট্রাভেল খাতের শীর্ষ সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (আটাব) মহাসচিব ছিলেন আসফিয়া জান্নাত সালেহ। চলতি বছরের আগস্টে সংগঠনের সভাপতি ও মহাসচিবের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠার পর মন্ত্রণালয় আটাব কমিটি বাতিল করে দেয়। এরপর থেকেই আসফিয়ার বিরুদ্ধে এয়ার টিকিট ব্যবস্থাপনায় একাধিক অনিয়ম ও অর্থ পাচারের অভিযোগ সামনে আসে।

 

তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স, আর্থিক লেনদেন ও আইএটিএ–সংশ্লিষ্ট নথিও পর্যালোচনা করা হবে।