, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মেহেন্দিগঞ্জে নদী ভাঙন রোধে মানবিক নেতা এডভোকেট এম. হেলাল উদ্দিনের উদ্যোগ, একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় বাস্তুহারা দলের উদ্যোগে দোয়া ও মাহফিল অনুষ্ঠিত হিজলায় মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মোনাজাত  মেহেন্দিগঞ্জে খালেদা জিয়ার শোক সভায় রাজিব আহসান নিজে কাঁদলেন এবং সবাইকে কাঁদালেন পুরান ঢাকায় শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরন করেছে ইউরো ফেমাস ক্লাব আনন্দঘন পিকনিকে মুখর বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুরা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার নির্বাচন: নিপুন রায় চৌধুরী গ্যাসের দামে কারসাজি সংবাদ প্রকাশের পর কেরানীগঞ্জে মোবাইল কোর্ট, জরিমানা ৩২ হাজার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে কেন্দ্রীয় যুবদল সভাপতি ও সিনিয়র সহ-সভাপতির সৌজন্য সাক্ষাৎ চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যু

অসংখ্য যুবকের স্বপ্নভঙ্গের নির্মম বাস্তবতা: প্রতারক রফিকুল্লাহ গাজ্জালীর হাতে ধ্বংস একাধিক পরিবার

  • প্রকাশের সময় : ০১:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫
  • ৩৩২ পড়া হয়েছে

 

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

 

 

অর্থ উপার্জনের স্বপ্নে বিভোর হয়ে অনেকেই পাড়ি জমায় প্রবাসের পথে। তেমনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে (UAE) ভালো চাকরি, স্থায়ী আইডি এবং অধিক বেতনের প্রলোভনে অসংখ্য যুবককে নিয়ে গিয়ে ভয়াবহ প্রতারণার ফাঁদ পেতেছিলেন এক চিহ্নিত প্রতারক—মোঃ রফিকুল্লাহ গাজ্জালী। নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য তিনি ধ্বংস করেছেন বহু তরুণের জীবন, নিঃস্ব করেছেন অনেক পরিবার।

 

 

রফিকুল্লাহ গাজ্জালীর বাড়ি বাগেরহাট জেলার একটি গ্রামে। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি লোক পাঠানোর নামে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবৈধ পন্থায় মানুষ পাঠিয়ে আসছিলেন। মূলত সংযুক্ত আরব আমিরাতে চাকরির লোভ দেখিয়ে তিনি অসংখ্য বেকার যুবককে প্রলুব্ধ করেন। প্রতিজনের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে তাদের নিয়ে যান দুবাইসহ আমিরাতের বিভিন্ন শহরে। প্রতিশ্রুতি ছিল—চাকরি হবে ভালো কোম্পানিতে, দ্রুত রেসিডেন্স আইডি (ভিসা) করিয়ে দেওয়া হবে এবং থাকা-খাওয়ার সম্পূর্ণ ব্যবস্থাও থাকবে।

 

 

বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত:-

 

প্রবাসে পৌঁছানোর পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো আইডি বা চাকরি না দিয়ে উল্টো আরও টাকা দাবি করতেন রফিকুল্লাহ। অনেকে ধার করে, গৃহবন্দী হয়ে পড়েও তাকে টাকা দিয়েছেন। কিন্তু তারপরও না মেলেনি কাজ, না মিলেছে আইডি। দিনের পর দিন অবৈধ অবস্থায় পড়ে থাকতে হয়েছে বহু যুবককে। পুলিশের ভয়ে চরম আতঙ্ক আর অমানবিক জীবনযাপন করতে বাধ্য হন তারা।

 

 

 

ভেঙে গেছে বহু স্বপ্ন, নিঃস্ব বহু পরিবার:-

 

একজনের প্ররোচনায় দেশের বহু পরিবার সর্বস্ব হারিয়েছে। বাড়ি বিক্রি করে, ঋণ করে, অনেকেই রফিকুল্লাহর প্রলোভনে পা দিয়েছিল। আজ তাদের কেউ কর্মহীন, কেউ দেশে ফিরে হতাশ, আবার কেউ এখনো অবৈধ হয়ে দিন পার করছেন প্রবাসে। কেউ কেউ মানসিকভাবে এতটাই বিপর্যস্ত যে, আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছেন বলে জানা গেছে।

 

 

প্রশাসনের প্রতি দাবি:-

 

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে, এই প্রতারকের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও জোর দাবি জানানো হয়। একইসাথে, এ ধরনের মানবপাচার ও প্রবাসী নির্যাতনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে যথাযথ মনিটরিং এবং অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে আহ্বান জানান মানবাধিকার কর্মীরা।

 

 

 

 

সফল প্রবাস জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে প্রতারক রফিকুল্লাহ গাজ্জালী যেভাবে যুব সমাজকে ধ্বংস করেছেন, তা সমাজের জন্য এক করুণ সতর্কবার্তা। সময় এসেছে এসব প্রতারণার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার—না হলে আরও কত রফিকুল্লাহ আরও কত স্বপ্ন কেড়ে নেবে, তার ইয়ত্তা থাকবে না।

 

জনপ্রিয়

মেহেন্দিগঞ্জে নদী ভাঙন রোধে মানবিক নেতা এডভোকেট এম. হেলাল উদ্দিনের উদ্যোগ, একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায়

অসংখ্য যুবকের স্বপ্নভঙ্গের নির্মম বাস্তবতা: প্রতারক রফিকুল্লাহ গাজ্জালীর হাতে ধ্বংস একাধিক পরিবার

প্রকাশের সময় : ০১:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫

 

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক:

 

 

অর্থ উপার্জনের স্বপ্নে বিভোর হয়ে অনেকেই পাড়ি জমায় প্রবাসের পথে। তেমনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে (UAE) ভালো চাকরি, স্থায়ী আইডি এবং অধিক বেতনের প্রলোভনে অসংখ্য যুবককে নিয়ে গিয়ে ভয়াবহ প্রতারণার ফাঁদ পেতেছিলেন এক চিহ্নিত প্রতারক—মোঃ রফিকুল্লাহ গাজ্জালী। নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য তিনি ধ্বংস করেছেন বহু তরুণের জীবন, নিঃস্ব করেছেন অনেক পরিবার।

 

 

রফিকুল্লাহ গাজ্জালীর বাড়ি বাগেরহাট জেলার একটি গ্রামে। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি লোক পাঠানোর নামে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবৈধ পন্থায় মানুষ পাঠিয়ে আসছিলেন। মূলত সংযুক্ত আরব আমিরাতে চাকরির লোভ দেখিয়ে তিনি অসংখ্য বেকার যুবককে প্রলুব্ধ করেন। প্রতিজনের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে তাদের নিয়ে যান দুবাইসহ আমিরাতের বিভিন্ন শহরে। প্রতিশ্রুতি ছিল—চাকরি হবে ভালো কোম্পানিতে, দ্রুত রেসিডেন্স আইডি (ভিসা) করিয়ে দেওয়া হবে এবং থাকা-খাওয়ার সম্পূর্ণ ব্যবস্থাও থাকবে।

 

 

বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত:-

 

প্রবাসে পৌঁছানোর পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো আইডি বা চাকরি না দিয়ে উল্টো আরও টাকা দাবি করতেন রফিকুল্লাহ। অনেকে ধার করে, গৃহবন্দী হয়ে পড়েও তাকে টাকা দিয়েছেন। কিন্তু তারপরও না মেলেনি কাজ, না মিলেছে আইডি। দিনের পর দিন অবৈধ অবস্থায় পড়ে থাকতে হয়েছে বহু যুবককে। পুলিশের ভয়ে চরম আতঙ্ক আর অমানবিক জীবনযাপন করতে বাধ্য হন তারা।

 

 

 

ভেঙে গেছে বহু স্বপ্ন, নিঃস্ব বহু পরিবার:-

 

একজনের প্ররোচনায় দেশের বহু পরিবার সর্বস্ব হারিয়েছে। বাড়ি বিক্রি করে, ঋণ করে, অনেকেই রফিকুল্লাহর প্রলোভনে পা দিয়েছিল। আজ তাদের কেউ কর্মহীন, কেউ দেশে ফিরে হতাশ, আবার কেউ এখনো অবৈধ হয়ে দিন পার করছেন প্রবাসে। কেউ কেউ মানসিকভাবে এতটাই বিপর্যস্ত যে, আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছেন বলে জানা গেছে।

 

 

প্রশাসনের প্রতি দাবি:-

 

ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে দাবি উঠেছে, এই প্রতারকের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও জোর দাবি জানানো হয়। একইসাথে, এ ধরনের মানবপাচার ও প্রবাসী নির্যাতনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে যথাযথ মনিটরিং এবং অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে আহ্বান জানান মানবাধিকার কর্মীরা।

 

 

 

 

সফল প্রবাস জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে প্রতারক রফিকুল্লাহ গাজ্জালী যেভাবে যুব সমাজকে ধ্বংস করেছেন, তা সমাজের জন্য এক করুণ সতর্কবার্তা। সময় এসেছে এসব প্রতারণার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার—না হলে আরও কত রফিকুল্লাহ আরও কত স্বপ্ন কেড়ে নেবে, তার ইয়ত্তা থাকবে না।