
আসিফ চৌধুরী, বিশেষ সংবাদদাতা ঢাকা :
বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের মানসিক বিকাশ ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রুপা’স ভিশন ফর এক্সেপশনাল লাইভস–এর উদ্যোগে এক আনন্দঘন পিকনিক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৩ জানুয়ারি দিনব্যাপী এই আয়োজনে অংশ নেন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুরা ও তাঁদের অভিভাবকেরা।
পিকনিকটি পরিণত হয় উৎসবমুখর এক মিলনমেলায়। রঙিন সাজসজ্জা, প্রাণবন্ত পরিবেশ আর শিশুদের হাসি-কোলাহলে পুরো আয়োজন হয়ে ওঠে আনন্দে ভরপুর। শিশুদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে রাখা হয় খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ফ্যাশন শো এবং বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে যাদু প্রদর্শনী। এসব আয়োজনে শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানস্থলজুড়ে ছড়িয়ে দেয় আনন্দ ও উচ্ছ্বাস।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে পিকনিকে অংশগ্রহণকারী সব শিশু ও কিশোরদের পুরস্কৃত করা হয়। এতে তাদের আত্মবিশ্বাস ও আনন্দ আরও বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে সামাজিক কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সংগঠনের পক্ষ থেকে তিনজন অভিভাবক ও কেয়ারগিভারকে সম্মাননা দেওয়া হয়। এ সময় আয়োজকেরা জানান, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের উন্নয়ন ও কল্যাণে পিতামাতা ও কেয়ারগিভারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পিকনিকে অভিভাবকদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবার-পরিজনেরাও অংশ নেন। সন্তানদের সঙ্গে একটি দিন নিরবচ্ছিন্নভাবে আনন্দে কাটানোর সুযোগ পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন অনেক অভিভাবক। তাঁদের মতে, এ ধরনের আয়োজন শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য যেমন উপকারী, তেমনি পরিবারগুলোর মধ্যেও ইতিবাচক সম্পর্ক ও বন্ধন গড়ে তোলে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নিয়মিত এমন আনন্দমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আয়োজন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের সামাজিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এতে তারা নিজেদের সমাজের অংশ হিসেবে ভাবতে শেখে এবং আত্মবিশ্বাস অর্জন করে।
এ সময় আরও জানানো হয়, ভবিষ্যতে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জন্য বিশেষায়িত ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে তারা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও থেরাপি পাবে। পাশাপাশি শিশুদের সঠিকভাবে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে গ্রাম পর্যায়ে বিনা মূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
রুপা’স ভিশন ফর এক্সেপশনাল লাইভস মনে করে, ভালোবাসা, আনন্দ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশই বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠার অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে সংগঠনটি।













