
আসিফ চৌধুরী, বিশেষ সংবাদদাতা ঢাকা :
এলপিজি গ্যাসের বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের পর কেরানীগঞ্জে নড়েচড়ে বসেছে উপজেলা প্রশাসন। দৈনিক কালবেলায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর টানা অভিযোগের প্রেক্ষাপটে শনিবার (৩ জানুয়ারি) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে এলপিজি গ্যাসে অনিয়মের দায়ে পাঁচটি মামলায় মোট ৩২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
গত ২ ডিসেম্বর কালবেলা পত্রিকায় কেরানীগঞ্জে এলপিজি গ্যাসের বাজারে একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকার অভিযোগ তুলে ধরে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে গ্যাস বিক্রির চিত্র উঠে আসে। ওই সংবাদ প্রকাশের পর সাধারণ ভোক্তা ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসনের কাছে একাধিক অভিযোগ আসে।
অভিযোগ যাচাইয়ে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় শনিবার উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে গিয়ে দেখা যায়, একাধিক বিক্রেতা সরকার নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত মূল্যে এলপিজি গ্যাস বিক্রি করছেন। কিছু এলাকায় কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে গোপনে বেশি দামে গ্যাস সরবরাহের প্রমাণও পাওয়া যায়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত এসব অনিয়মের দায়ে পাঁচজন বিক্রেতার বিরুদ্ধে মামলা করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা আদায় করা হয়। পাশাপাশি আরও কয়েকজন বিক্রেতাকে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়মে জড়িত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. উমর ফারুক বলেন,
“এলপিজি গ্যাস মজুত বা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করার কোনো সুযোগ নেই। বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চলবে।”
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল মাওয়া এবং আফতাব আহমেদের নেতৃত্বে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে একযোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়।












