
আসিফ চৌধুরী, বিশেষ সংবাদদাতা ঢাকা :
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।
বিএনপির মিডিয়া সেল এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। তাঁর মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন খালেদা জিয়া। চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, তিনি হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনি সমস্যাসহ একাধিক শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত ছিলেন। গত ২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।
সোমবার রাতে হাসপাতালের সামনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, খালেদা জিয়া অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিলেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতি থাকলেও শারীরিক অবস্থা ‘আনফিট’ থাকায় তা সম্ভব হয়নি। দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছিল।
বেগম খালেদা জিয়ার জন্ম ১৯৪৫ সালে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। তিনি তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি দেশের অন্যতম প্রভাবশালী নারী নেতৃত্ব হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
২০১৮ সালে দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে তিনি কারাবরণ করেন। পরবর্তী সময়ে সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে মুক্ত হয়ে গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’ ও হাসপাতালে অবস্থান করছিলেন।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জানাজা ও দাফনের বিষয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত আজ বিকেলের মধ্যে জানানো হবে। দলীয় প্রধানের মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোক কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি।













