, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মেহেন্দিগঞ্জে নদী ভাঙন রোধে মানবিক নেতা এডভোকেট এম. হেলাল উদ্দিনের উদ্যোগ, একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় বাস্তুহারা দলের উদ্যোগে দোয়া ও মাহফিল অনুষ্ঠিত হিজলায় মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মোনাজাত  মেহেন্দিগঞ্জে খালেদা জিয়ার শোক সভায় রাজিব আহসান নিজে কাঁদলেন এবং সবাইকে কাঁদালেন পুরান ঢাকায় শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরন করেছে ইউরো ফেমাস ক্লাব আনন্দঘন পিকনিকে মুখর বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুরা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার নির্বাচন: নিপুন রায় চৌধুরী গ্যাসের দামে কারসাজি সংবাদ প্রকাশের পর কেরানীগঞ্জে মোবাইল কোর্ট, জরিমানা ৩২ হাজার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে কেন্দ্রীয় যুবদল সভাপতি ও সিনিয়র সহ-সভাপতির সৌজন্য সাক্ষাৎ চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যু

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে থানা থেকে বাসায় ফেরার পথে কুয়েতপ্রবাসীকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা

  • প্রকাশের সময় : ০৬:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫
  • ৩৭৯ পড়া হয়েছে

 

আসিফ চৌধুরী, বিশেষ সংবাদদাতা ঢাকা :

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা থেকে বাসায় ফেরার পথে অপহরণ হন কুয়েত প্রবাসী তাইজুল ইসলাম (৬৩) নামে এক কুয়েত প্রবাসী। সোমবার রাত ১২টার দিকে কেরানীগঞ্জ ঝিলমিল প্রকল্পের ভিতর থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশের ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। তার বাসা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের পশ্চিমদি ঝাউতলা এলাকায়।

 

নিহতের স্ত্রী ফাতেমা বেগম বলেন, তার স্বামী তাইজুল ইসলাম কুয়েত প্রবাসী। সে আড়াই মাস আগে দেশে আসেন। দেশে আসার পর গত ২মাস আগে তার মেজ মেয়ে খাদিজা বেগমকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার তেঘরিয়া গ্রামের মকিম মোল্লার ছেলে সৌদি প্রবাসী সবুজ মোল্লার সাথে বিবাহ হয়। আগামী আগস্ট মাসের ১০ তারিখে তার কুয়েতে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

 

সোমবার দুপুরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আক্তার হোসেন তার জামাতা সবুজ মোল্লাকে থানায় মোবাইল ও টাকা চুরির মীমাংসার জন্য থানায় ডাকেন। সালিশি করেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার এসআই মঞ্জুরুল ইসলাম । জামাতা সবুজ দুপুর ২টায় তার শশুর তাইজুল ইসলামকে নিয়ে উক্ত সালিশিতে অংশগ্রহণ করে। সন্ধ্যা ৬ টায় তারা কোনো রকম মীমাংসা ছাড়াই থানা থেকে বের হয়ে বাড়িতে রওনা হন। নিহত তাইজুল ইসলাম দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা থেকে বের হয়ে তেঘরিয়া বাস স্টেশন পৌছার পর অপহরণ হন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর রাত দশটায় তার লাশ পাওয়া যায় কেরানীগঞ্জ ঝিলমিল আবাসন প্রকল্পের গহীন জঙ্গলে।

 

নিহত তাইজুল ইসলামের জামাতা সবুজ মোল্লা জানায়, গত তিনদিন আগে ইট বালি ডেলিভারি দেওয়ার কথা বলে তাদের বাড়িতে আসে ইটের ভাটার লোক কাশেম আলী ও মিজানুর রহমান । তারা তখন তার বাসা থেকে মোবাইল ও মোবাইলের বিকাশে থাকা এক লক্ষ টাকা নিয়ে যায়। এ নিয়ে ইট ভাটার লোক কাশেম ও মিজানের বিরুদ্ধে সবুজ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেন। উক্ত অভিযোগের মীমাংসার জন্য ৭ জুলাই সোমবার দুপুরে থানার দারোগা মনজুরুল ইসলাম তাকে সালিশি মীমাংসার জন্য ডাকেন। তিনি তার শশুর তাইজুল ইসলামকে নিয়ে উক্ত সালিশিতে অংশগ্রহণ করেন। সালিশের একপর্যায়ে কোনরকম মীমাংসা ছাড়াই তারা থানা থেকে চলে যান। পরে আমার শ্বশুর থানা থেকে নিজ বাড়ি কেরানীগঞ্জের জাল খোলা পশ্চিমদি গ্রামে যাওয়ার পথে তেঘরিয়া বাস স্টেশন থেকে অপহরণ হয়। সন্ধ্যা থেকে তার মোবাইল বন্ধ থাকে। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি পর ঝিলমিল আবাসন প্রকল্প থেকে পুলিশ সোমবার রাত দশটায় আমার শ্বশুরের লাশ উদ্ধার করে।

তিনি বলেন, যাদের বিরুদ্ধে মোবাইল চুরির অভিযোগ দেওয়া হয়েছে তারাই অপহরণের পর আমার শ্বশুরকে মেরে ফেলেছে।

 

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেন জানায়, দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিহত তাইজুল ইসলাম তার থানায় অবস্থান করেছিল। তার জামাতার মোবাইল চুরি ব্যাপারে দুই পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছিল। তারা সন্ধ্যা ছয়টা নাগাদ থানা থেকে বের হয়ে যান। পরে রাত ১০ টায় র‍্যাব- ১০ ঝিলমিল আবাসন প্রকল্প থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। তার শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

 

এ ব্যাপারে নিহত তাইজুল ইসলামের স্ত্রী ফাতেমা বেগম দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

জনপ্রিয়

মেহেন্দিগঞ্জে নদী ভাঙন রোধে মানবিক নেতা এডভোকেট এম. হেলাল উদ্দিনের উদ্যোগ, একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায়

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে থানা থেকে বাসায় ফেরার পথে কুয়েতপ্রবাসীকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা

প্রকাশের সময় : ০৬:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫

 

আসিফ চৌধুরী, বিশেষ সংবাদদাতা ঢাকা :

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা থেকে বাসায় ফেরার পথে অপহরণ হন কুয়েত প্রবাসী তাইজুল ইসলাম (৬৩) নামে এক কুয়েত প্রবাসী। সোমবার রাত ১২টার দিকে কেরানীগঞ্জ ঝিলমিল প্রকল্পের ভিতর থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশের ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। তার বাসা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের পশ্চিমদি ঝাউতলা এলাকায়।

 

নিহতের স্ত্রী ফাতেমা বেগম বলেন, তার স্বামী তাইজুল ইসলাম কুয়েত প্রবাসী। সে আড়াই মাস আগে দেশে আসেন। দেশে আসার পর গত ২মাস আগে তার মেজ মেয়ে খাদিজা বেগমকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার তেঘরিয়া গ্রামের মকিম মোল্লার ছেলে সৌদি প্রবাসী সবুজ মোল্লার সাথে বিবাহ হয়। আগামী আগস্ট মাসের ১০ তারিখে তার কুয়েতে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

 

সোমবার দুপুরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আক্তার হোসেন তার জামাতা সবুজ মোল্লাকে থানায় মোবাইল ও টাকা চুরির মীমাংসার জন্য থানায় ডাকেন। সালিশি করেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার এসআই মঞ্জুরুল ইসলাম । জামাতা সবুজ দুপুর ২টায় তার শশুর তাইজুল ইসলামকে নিয়ে উক্ত সালিশিতে অংশগ্রহণ করে। সন্ধ্যা ৬ টায় তারা কোনো রকম মীমাংসা ছাড়াই থানা থেকে বের হয়ে বাড়িতে রওনা হন। নিহত তাইজুল ইসলাম দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা থেকে বের হয়ে তেঘরিয়া বাস স্টেশন পৌছার পর অপহরণ হন। অনেক খোঁজাখুঁজির পর রাত দশটায় তার লাশ পাওয়া যায় কেরানীগঞ্জ ঝিলমিল আবাসন প্রকল্পের গহীন জঙ্গলে।

 

নিহত তাইজুল ইসলামের জামাতা সবুজ মোল্লা জানায়, গত তিনদিন আগে ইট বালি ডেলিভারি দেওয়ার কথা বলে তাদের বাড়িতে আসে ইটের ভাটার লোক কাশেম আলী ও মিজানুর রহমান । তারা তখন তার বাসা থেকে মোবাইল ও মোবাইলের বিকাশে থাকা এক লক্ষ টাকা নিয়ে যায়। এ নিয়ে ইট ভাটার লোক কাশেম ও মিজানের বিরুদ্ধে সবুজ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেন। উক্ত অভিযোগের মীমাংসার জন্য ৭ জুলাই সোমবার দুপুরে থানার দারোগা মনজুরুল ইসলাম তাকে সালিশি মীমাংসার জন্য ডাকেন। তিনি তার শশুর তাইজুল ইসলামকে নিয়ে উক্ত সালিশিতে অংশগ্রহণ করেন। সালিশের একপর্যায়ে কোনরকম মীমাংসা ছাড়াই তারা থানা থেকে চলে যান। পরে আমার শ্বশুর থানা থেকে নিজ বাড়ি কেরানীগঞ্জের জাল খোলা পশ্চিমদি গ্রামে যাওয়ার পথে তেঘরিয়া বাস স্টেশন থেকে অপহরণ হয়। সন্ধ্যা থেকে তার মোবাইল বন্ধ থাকে। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি পর ঝিলমিল আবাসন প্রকল্প থেকে পুলিশ সোমবার রাত দশটায় আমার শ্বশুরের লাশ উদ্ধার করে।

তিনি বলেন, যাদের বিরুদ্ধে মোবাইল চুরির অভিযোগ দেওয়া হয়েছে তারাই অপহরণের পর আমার শ্বশুরকে মেরে ফেলেছে।

 

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেন জানায়, দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিহত তাইজুল ইসলাম তার থানায় অবস্থান করেছিল। তার জামাতার মোবাইল চুরি ব্যাপারে দুই পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছিল। তারা সন্ধ্যা ছয়টা নাগাদ থানা থেকে বের হয়ে যান। পরে রাত ১০ টায় র‍্যাব- ১০ ঝিলমিল আবাসন প্রকল্প থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। তার শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

 

এ ব্যাপারে নিহত তাইজুল ইসলামের স্ত্রী ফাতেমা বেগম দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।