মোঃ হুমায়ুন কবির।
বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ মাওলানা আযীযুর রহমান কায়েদ সাহেব হুজুর প্রতিষ্ঠিত ঝালকাঠির নেছারাবাদ দরবারে আজ শুক্রবার (২১ নভেম্বর) থেকে শুরু হলো দুই দিনব্যাপী বার্ষিক ঈছালে সওয়াব ও ওয়াজ-মাহফিল।
এনএস কামিল মাদ্রাসা ময়দানে শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় মাহফিল শুরু হয়ে শেষ হবে রোববার (২৩ নভেম্বর) বাদ ফজর আখেরি মোনাজাতে।
মাহফিল সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ। প্যান্ডেলগুলো সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো হয়েছে। এরইমধ্যে কায়েদ ভক্ত, আশেকান ও মেহমান মাহফিলস্থলে আসতে শুরু করেছেন।
মাহফিলের দ্বিতীয় দিন শনিবার (২২ নভেম্বর) সকাল ১০টায় ‘জাতীয় প্রতিনিধি সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হবে। এতে অংশগ্রহণ করবেন দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক শীর্ষস্থানীয় জাতীয় নেতৃবৃন্দ।
মাহফিলে সভাপতিত্ব ও চার পর্বে এছলাহী বয়ান পেশ করবেন অত্র দরবার ও কমপ্লেক্সের মহাপরিচালক, হিযবুল্লাহ জমিয়াতুল মুছলিহীনের আমির, বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ও গবেষক, অধ্যক্ষ হজরত মাওলানা মুহম্মদ খলীলুর রহমান নেছারাবাদী।
এছাড়াও দুই দিনব্যাপী এ মাহফিলে দেশের প্রখ্যাত ওলামায়ে কেরাম ও পীর-মাশায়েখ উপস্থিত থেকে ওয়াজ ও নসিহত পেশ করবেন।
দেশের প্রতিটি মহানগর, জেলা ও উপজেলা থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে লাখো ভক্ত-আশেকান, মুহিব্বিন ও ঐক্যকামী ধর্মপ্রাণ মুসলমান এ ঐতিহ্যবাহী মাহফিলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করবে।
খলীলুর রহমান নেছারাবাদী সাংবাদিকদের বলেন,
এ মাহফিল দুনিয়ার কোনো উদ্দেশ্যে নয় বরং মহান আল্লাহর রাজি-খুশির জন্য কায়েম করা হয়েছে। এখানে যারা আসে তাদেরকে আত্মসংশোধনের জন্য অজু, নামাজ, জিকির-আজকার, দোয়া-দরুদ ও সুন্নতি জিন্দেগী গঠনের তালিম-তরবিয়াত দেয়া হয়। পাশাপাশি একজন মুসলিম হিসেবে এসলাহে কওম তথা সমাজ-সংস্কার ও এসলাহে হুকুমত তথা রাষ্ট্র-সংস্কারের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্যও দিকনির্দেশনা দেয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, মহন আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই মুমিনগণ পরস্পর ভাই ভাই।’ অতএব, হক্কুল্লাহ তথা আল্লাহর হকের পাশাপাশি হক্কুল এবাদ তথা বান্দার হক বা মানবাধিকারের প্রতিও খুব খেয়াল রাখবেন। কলেমায় বিশ্বাসী হিসেবে সব মুমিন-মুসলিমকে ভাই বলে বুকে টেনে নেবেন; নিজের মাসলাকের, সেলসেলার, দলের না ভেবে কাউকে দূরে ঠেলে দিয়ে বিচ্ছিন্ন করে দেবেন না। তাহলে কলেমার শিক্ষা থেকে বিচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেবে। মহান আল্লাহ আরেক আয়াতে বলেন, ‘তোমরা সাদেকীন-নেককার আল্লাহওয়ালাদের সাথি হও।’ অতএব, ইসলামি জিন্দেগী যাপনের নিমিত্ত কোনো না কোনো পীর-মাশায়েখ আল্লাহওয়ালাদের সোহবত-সংস্পর্শে থাকবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন নেছারাবাদী হুজুর ।