
নিউজ ডেস্ক:-
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় ভয়াবহ নদী ভাঙন রোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প এখন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)-এর অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর তীব্র ভাঙনের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা রক্ষায় এই উদ্যোগকে স্থানীয়রা দেখছেন আশার আলো হিসেবে।
এ মানবিক ও সময়োপযোগী উদ্যোগের পেছনে রয়েছেন বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) এলাকার জনপ্রিয় ও মানবিক নেতা, এডভোকেট এম. হেলাল উদ্দিন। দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনে সর্বস্ব হারানো মানুষের দুর্দশা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে তিনি বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের উদ্যোগে “মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙন হতে বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা সংরক্ষণ” শীর্ষক প্রকল্পটি একনেক সভায় উপস্থাপনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত ডিপিপি, সার-সংক্ষেপ, সিডি এবং পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের সূত্রে জানা যায়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক প্রস্তাবিত এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা বিস্তীর্ণ জনপদ, ফসলি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা ও যোগাযোগ অবকাঠামো সুরক্ষিত হবে। পাশাপাশি হাজার হাজার মানুষের বসতভিটা ও জীবিকা রক্ষা পাবে।
এডভোকেট এম. হেলাল উদ্দিন এ বিষয়ে বলেন,
“মেহেন্দিগঞ্জের মানুষ বছরের পর বছর নদী ভাঙনের সঙ্গে যুদ্ধ করছে। এটি শুধু উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এটি মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ রক্ষার প্রশ্ন। আমি বিশ্বাস করি, একনেকে অনুমোদন হলে এই এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুঃখ-কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুম এলেই নদীভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটে তাদের। বহু পরিবার ইতোমধ্যে ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত একনেকে প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে বাস্তব কাজ শুরু হবে এবং স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরি হবে।
সচেতন মহলের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার টেকসই নদী ব্যবস্থাপনার একটি দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে। মানবিক বিবেচনায় নেওয়া এ প্রকল্প দ্রুত অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এখন সবকিছু নির্ভর করছে একনেক সভার সিদ্ধান্তের ওপর। অনুমোদন মিললেই মেহেন্দিগঞ্জের নদীভাঙন রোধে নতুন অধ্যায় শুরু হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।













