
নিউজ ডেস্ক:-
মেহেন্দিগঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম-আহ্বায়ক বি এম নাঈম মাহমুদ–এর পদ থেকে অব্যাহতি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে সৃষ্টি হয়েছে চরম বিভ্রান্তি ও কৌতূহল। এটি কি সত্যিই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে নেওয়া কোনো সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত, নাকি অনেক আগেই ব্যক্তিগত কারণে তিনি স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছিলেন—এই প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগেই বি এম নাঈম মাহমুদ ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতির আবেদন করেছিলেন। সে সময় বিষয়টি দলীয় পর্যায়ে আলোচিত হলেও প্রকাশ্যে কোনো সিদ্ধান্ত বা বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়নি। অথচ সম্প্রতি হঠাৎ করে ‘দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে অব্যাহতি’—এমন আলোচনা সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ।
রাজনৈতিক সচেতন মহলের প্রশ্ন,
যদি একজন নেতা তিন মাস আগেই স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করে থাকেন, তাহলে এতদিন পর কীভাবে সেখানে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ যুক্ত হয়?
এটা কি কেবল সময়ের ব্যবধান, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো অজানা সমীকরণ?
দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশ মনে করছেন, এই অস্পষ্টতা শুধু একজন নেতার ভাবমূর্তিই ক্ষুণ্ন করছে না, বরং সংগঠনের ভেতরের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। তারা বলছেন, রাজনীতিতে মতভিন্নতা থাকতেই পারে, কিন্তু সত্যকে আড়াল করে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হলে তা দলের জন্যই ক্ষতিকর।
এদিকে বি এম নাঈম মাহমুদের ঘনিষ্ঠদের দাবি, তিনি কখনোই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। বরং সাংগঠনিক কাজের প্রতি তার দায়বদ্ধতা ও ত্যাগ ছিল প্রশ্নাতীত। তাই তার অব্যাহতির পেছনে ‘শৃঙ্খলা ভঙ্গ’ শব্দটি ব্যবহার করা হলে তা অনাকাঙ্ক্ষিত ও অযৌক্তিক বলেই মনে করছেন তারা।
সব মিলিয়ে, মেহেন্দিগঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের এই অব্যাহতি ইস্যু এখন শুধু একটি সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি অমীমাংসিত রহস্য। প্রকৃত সত্য কী—শৃঙ্খলা ভঙ্গ নাকি স্বেচ্ছা অব্যাহতি—তা স্পষ্ট করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় প্রশ্ন থেকেই যাবে, আর সেই প্রশ্নের ভার পড়বে পুরো সংগঠনের ওপর।















