দুঃসময়ের সাহসী সৈনিক দেওয়ান জলিল আজ নীরব কেন?
-
-
প্রকাশের সময় :
০১:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
-
২৪
পড়া হয়েছে

দুঃসময়ের সাহসী সৈনিক দেওয়ান জলিল আজ নীরব কেন? মাঠের রাজনীতিতে অনুপস্থিতির কারণ নিয়ে তৃণমূলে প্রশ্ন
বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার চাঁনপুর ইউনিয়নে বিএনপির রাজনীতিতে একসময়ের পরিচিত ও নির্ভীক মুখ ছিলেন দেওয়ান জলিল। দলের দুঃসময়ে, যখন অনেকেই ভয়ে বা সুবিধাবাদের কারণে রাজপথ ছেড়ে সরে গিয়েছিলেন, তখনও তিনি ছিলেন মাঠে—মিছিল, সভা, কর্মসূচিতে সরব উপস্থিতি ছিল তার।
ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সম্পৃক্ত দেওয়ান জলিল ছিলেন চাঁনপুর ইউনিয়নের একজন সক্রিয় ছাত্রনেতা। পরবর্তীতে কৃষক দলের রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তৃণমূল পর্যায়ে দল গঠনে, আন্দোলন-সংগ্রামে তাকে দেখা গেছে নিরলসভাবে কাজ করতে।
কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় আজ সেই দেওয়ান জলিল নেই কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে। নেই মিছিলের স্লোগানে, নেই সভা-মিটিংয়ের কাতারে। হঠাৎ করেই যেন রাজপথ থেকে হারিয়ে গেলেন একজন পরীক্ষিত ত্যাগী কর্মী।
এই অনুপস্থিতি নিয়ে চাঁনপুর ইউনিয়নের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।
তাহলে কি দীর্ঘদিনের ত্যাগের মূল্যায়ন হয়নি?
নাকি অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বলি হয়েছেন একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী?
না কি ব্যক্তিগত কোনো বেদনা, অভিমান বা বাস্তবতার কঠিন চাপ তাকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে?
তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মীর দাবি, দলের দুঃসময়ে যারা বুক পেতে লড়েছেন, তাদের হঠাৎ হারিয়ে যাওয়া শুধু একজন ব্যক্তির বিষয় নয়—এটি পুরো সংগঠনের জন্যই এক ধরনের শূন্যতা। একজন ত্যাগী নেতা যখন নিঃশব্দে রাজপথ ছাড়েন, তখন সেই নীরবতা আরও গভীর প্রশ্নের জন্ম দেয়।
দেওয়ান জলিল আজ নীরব। কিন্তু তার অতীত ভূমিকা এখনো স্মরণ করে চাঁনপুরের রাজনীতি। তার মতো ত্যাগী নেতাকর্মীরা যদি মাঠে না থাকেন, তাহলে দলে ত্যাগ ও নিষ্ঠার মূল্যায়ন নিয়েও নতুন করে ভাবার সময় এসেছে—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক।
দেওয়ান জলিলের এই অনুপস্থিতি কি সাময়িক, নাকি এটি তৃণমূল রাজনীতিতে অবহেলার এক দীর্ঘশ্বাস—এর উত্তর খুঁজছে চাঁনপুরের রাজনীতি।